আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবসমূহে বিশ্বাস রাখা ঈমানের ছয়টি মূল বিষয়ের একটি। কিতাব বলতে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ওহী বা নির্দেশনাকেই বোঝায়, যা নবী-রাসূলগণ মানবজাতির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এসব কিতাব মানুষের হিদায়াত ও মুক্তির পথপ্রদর্শক।
কিতাবসমূহে বিশ্বাস করার অর্থ
-
বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আসমানি কিতাব নাযিল করেছেন।
-
প্রতিটি কিতাব সেই যুগের মানুষদের জন্য সঠিক পথ দেখিয়েছে।
-
আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবসমূহ সত্য, তবে বর্তমানে পরিবর্তন ছাড়া কেবল আল-কুরআন অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে।
প্রধান কিতাবসমূহ
-
তাওরাত – হজরত মুসা (আঃ)-এর উপর নাযিল হয়।
-
জবুর – হজরত দাউদ (আঃ)-এর উপর নাযিল হয়।
-
ইঞ্জিল – হজরত ঈসা (আঃ)-এর উপর নাযিল হয়।
-
আল-কুরআনুল কারীম – হজরত মুহাম্মদ ﷺ -এর উপর নাযিল হয়েছে, যা সর্বশেষ এবং কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষত ও প্রযোজ্য থাকবে।
কুরআনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
-
কুরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব, যা মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।
-
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সংরক্ষিত, কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
-
কুরআন দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির পথ দেখায়।
-
পূর্ববর্তী সব কিতাবের শিক্ষা এতে পরিপূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণ
-
আল্লাহ বলেনঃ
“বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর, যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, যা ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের সন্তানদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা মূসা, ঈসা ও অন্য নবীদেরকে তাদের রবের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। আমরা তাদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না, এবং আমরা তাঁরই অনুগত।”
(সুরা বাকারা: ১৩৬)
কিতাবসমূহে বিশ্বাসের উপকারিতা
-
মানুষ বুঝতে পারে আল্লাহ মানবজাতির হিদায়াতের জন্য সবসময় পথপ্রদর্শন করেছেন।
-
কুরআনকে জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করলে দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা লাভ করা যায়।
-
সত্য-মিথ্যা ও সঠিক-ভুলের পার্থক্য জানা যায়।
-
মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভরসা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।
👉 সংক্ষেপে বলা যায়, আল্লাহর কিতাবসমূহে বিশ্বাস রাখা ঈমানের অপরিহার্য অংশ। আর মুসলমানদের জন্য আল-কুরআনের শিক্ষা মেনে চলাই হলো প্রকৃত হিদায়াতের পথ।
.jpg)
0 Comments