ঈমানের অংশ: ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস

ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস রাখা ইসলামের ঈমানের ছয়টি মূল বিষয়ের একটি। আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন। তারা আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি, যারা আল্লাহর আদেশ পালন করে থাকে এবং কখনো অবাধ্য হয় না।


ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য

  1. নূর থেকে সৃষ্টি – হাদীসে এসেছে, ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর থেকে।

  2. লিঙ্গহীন – তারা পুরুষ বা নারী নন।

  3. অবাধ্য নয় – আল্লাহ যা আদেশ দেন, তারা তা-ই করে।

  4. অদৃশ্য জগৎ – মানুষ তাদের সাধারণভাবে দেখতে পায় না।

  5. খাদ্য-পানীয়ের প্রয়োজন নেই – তারা খাওয়া-দাওয়া করে না, ক্লান্ত হয় না।


প্রধান ফেরেশতারা ও তাদের দায়িত্ব

  • হজরত জিবরাইল (আঃ) – আল্লাহর ওহী বা বার্তা নবীদের কাছে পৌঁছে দেন।

  • হজরত মিকাইল (আঃ) – বৃষ্টি ও রিজিক বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত।

  • হজরত ইসরাফিল (আঃ) – কেয়ামতের দিন শিঙ্গায় ফুঁক দিবেন।

  • হজরত আজরাইল (আঃ) – মানুষের প্রাণ কবজ করার দায়িত্বে আছেন।

  • কিরামান কাতিবীন – মানুষের সব ভালো-মন্দ কাজ লিখে রাখেন।

  • মুনকার ও নাকীর – কবরের প্রশ্নোত্তর গ্রহণ করেন।

  • হাফাজাহ ফেরেশতা – মানুষকে পাহারা দেন, বিপদ থেকে রক্ষা করেন।


কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণ

  • আল্লাহ বলেনঃ
    “রাসূল বিশ্বাস রেখেছেন যা তাঁর প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং মুমিনগণও (বিশ্বাস করেছে)। সবাই বিশ্বাস করেছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূলদের।”
    (সুরা বাকারা: ২৮৫)

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
    “তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাবসমূহের উপর, তাঁর রাসূলদের উপর, আখেরাত দিবসের উপর এবং তাকদিরে।” (মুসলিম)


ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাসের উপকারিতা

  1. মানুষকে আল্লাহভীরু করে তোলে, কারণ সব কাজ লিখে রাখা হচ্ছে।

  2. দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার বোধ জাগ্রত হয়।

  3. আখেরাতের প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে।

  4. আল্লাহর সৃষ্টির মহিমা উপলব্ধি করা যায়।


👉 সংক্ষেপে বলা যায়, ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস ছাড়া ঈমান পূর্ণ হয় না। এটি মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভীতি, জবাবদিহিতা ও সঠিক পথে চলার প্রেরণা জাগায়।




Post a Comment

0 Comments