ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো আল্লাহর প্রেরিত রাসুলগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। রাসুলদের উপর ঈমান রাখা অর্থ হলো – আল্লাহ যে সকল নবী ও রাসুলকে মানবজাতির দিকনির্দেশনার জন্য পাঠিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি বিশ্বাস করা এবং তাঁদের প্রচারিত হিদায়াতের প্রতি আস্থা রাখা।
রাসুলদের প্রতি ঈমান রাখার অর্থ
-
প্রত্যেক রাসুলকে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বলে স্বীকার করা – তাঁরা নিজের ইচ্ছায় নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করেছেন।
-
তাঁদের বার্তা সত্য বলে বিশ্বাস করা – তারা যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন, তা আল্লাহর ওহীর ভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ নির্ভুল।
-
তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা – তাদের প্রতি অবমাননা বা কটূক্তি করা কুফরীর সমান।
-
তাঁদের আনা শরীয়ত মেনে চলা – যে সময় ও জাতির জন্য যাকে প্রেরণ করা হয়েছে, তাদের জন্য সেই শরীয়ত মান্য করা ছিল ফরজ।
কেন রাসুলদের প্রতি ঈমান রাখা জরুরি
-
আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে রাসুলরাই মধ্যস্থ ছিলেন।
-
আল্লাহর বাণী, বিধান ও হুকুম মানুষকে পৌঁছে দিয়েছেন কেবল তাঁরাই।
-
মানব জীবনের সঠিক পথনির্দেশনা কেবল রাসুলদের মাধ্যমেই এসেছে।
-
রাসুলদের প্রতি অবিশ্বাস করলে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
রাসুলদের সংখ্যা ও পরিচিতি
-
আদম (আঃ)
-
নূহ (আঃ)
-
ইবরাহীম (আঃ)
-
মূসা (আঃ)
-
ঈসা (আঃ)
-
মুহাম্মদ (সাঃ) – যিনি শেষ নবী ও রাসুল।
রাসুলদের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব
-
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য জানা যায় – রাসুলদের শিক্ষা ছাড়া মানুষ অন্ধকারেই থাকত।
-
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয় – তাঁদের প্রতি বিশ্বাস রাখা মানেই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখা।
-
মানবজাতির ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয় – সব রাসুলই একই মূল শিক্ষা দিয়েছেন: আল্লাহ এক, তাঁর ইবাদতই মানুষের প্রধান কর্তব্য।
সর্বশেষ রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি বিশ্বাস
-
তিনি আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসুল।
-
তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না।
-
তাঁর শিক্ষা ও শরীয়ত কিয়ামত পর্যন্ত সকলের জন্য প্রযোজ্য।
উপসংহার:
রাসুলদের প্রতি ঈমান রাখা হলো ঈমানের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। আল্লাহ যেসব রাসুল প্রেরণ করেছেন তাঁদের সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে, কাউকে অস্বীকার করা যাবে না। বিশেষত শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি বিশ্বাস রাখা ছাড়া পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়।
.jpg)
0 Comments