সূরা আন্-নাবা (النّبأ) – এর শান-এ-নুযূল (নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট) নিয়ে ইসলামি মুফাসসিরগণ সংক্ষেপে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা হলো:
সূরার পরিচয়
- সূরাটির নাম "আন্-নাবা" অর্থাৎ "মহাসংবাদ"।
- এটি মক্কী সূরা; অর্থাৎ হিজরতের পূর্বে মক্কায় নাজিল হয়েছে।
- আয়াত সংখ্যা: ৪০
শান-এ-নুযূল (নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট)
কোরআনের মুফাসসিরগণ যেমন ইবনে কাসির, কুরতুবি, তাবারি প্রমুখ বর্ণনা করেছেন—
-
কাফেরদের প্রশ্ন ও উপহাস
কুরাইশ মুশরিকরা নবী কারীম ﷺ-কে নিয়ে উপহাস করত এবং আখিরাত, কিয়ামত, হাশর-নাশরের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করত। তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করত, “এই কি সত্যি? আবার মৃতরা কি জীবিত হবে? আবার কি বিচার হবে?”-
সূরার শুরুতেই বলা হয়েছে:
“তারা একে অপরকে কী বিষয়ে জিজ্ঞেস করে? সেই মহাসংবাদ সম্পর্কে, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে।” (আয়াত ১-৩)
-
-
কিয়ামতের অস্বীকার
মক্কার কাফেররা বিশ্বাস করত না যে মৃত্যুর পর মানুষকে আবার জীবিত করা হবে। তাদের এই অস্বীকৃতি ও ঠাট্টার জবাব হিসেবেই আল্লাহ এই সূরা নাজিল করেন। এখানে কিয়ামতের ভয়াবহতা, মানুষের পুনরুত্থান, এবং পরকালীন শাস্তি ও পুরস্কারের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। -
শুরুতেই প্রশ্নোত্তর ধাঁচ
সূরার প্রথম দিকের আয়াতগুলো এমনভাবে নাজিল হয়েছে যাতে কাফেরদের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেওয়া যায়। অর্থাৎ, কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী এবং সেটিই হলো সেই "মহাসংবাদ" (النّبأ العظيم) যা তারা অবহেলা করছে।
মূল বিষয়বস্তু
- আসমান-জমিন, রাত-দিন, পাহাড় ইত্যাদি আল্লাহর নিদর্শন স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন মানুষ বুঝতে পারে আখিরাত অসম্ভব নয়।
- কিয়ামতের দিন মানুষকে হাশরে তোলা হবে।
- কাফেরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
- মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে জান্নাত ও পুরস্কার।
✅ সংক্ষেপে:

0 Comments