বিষয়টি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি।
১. ইসলাম ও শরীয়ার প্রতি বিশ্বাস
-
ইসলামের মৌলিক শর্ত হলো আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস এবং মুহাম্মদ ﷺ-এর আনা শরীয়তের প্রতি আনুগত্য।
-
কুরআনে আল্লাহ বলেছেন:
"তারা কি জাহেলিয়াতের বিধান চায়? আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী তাদের জন্য আল্লাহর চেয়ে উত্তম বিধান দানকারী আর কে আছে?"
(সুরা মায়িদাহ: ৫০)
অতএব, ইসলাম মানেই শরীয়াহ মেনে চলা।
২. শরীয়াহ অস্বীকারকারীর অবস্থান
-
যদি কেউ বলে “আমি ইসলাম মেনে চলি, তবে শরীয়াহ মানি না”, এটি ইসলামের মৌলিক অঙ্গের বিরোধিতা।
-
শরীয়াহকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা kufr (কুফর)-এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, কারণ এটি আল্লাহর বিধান প্রত্যাখ্যান।
-
কুরআনে এসেছে:
"যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারাই কাফির।"
(সুরা মায়িদাহ: ৪৪)
৩. তাদের সমর্থনের প্রশ্ন
-
যদি কোনো ব্যক্তি বা দল প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয় যে তারা শরীয়াহ মানে না বা ইসলামি আইন বিশ্বাস করে না, তবে তাদেরকে সমর্থন করা মানে তাদের মতাদর্শকে শক্তি দেওয়া।
-
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হারাম। এমনকি তাদের কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়া বা রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
-
কারণ, সমর্থন মানে এক ধরনের রিদা (সন্তুষ্টি প্রকাশ), আর কুফর বা শরীয়াহ-বিরোধিতায় সন্তুষ্ট হওয়া ঈমান নষ্টের পথ।
৪. ব্যতিক্রমী দিক
-
যদি বিষয়টি সরাসরি শরীয়াহ বিরোধী সমর্থন না হয়ে, কোনো দুনিয়াবি কাজে সহযোগিতা হয় (যেমন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সমাজসেবা ইত্যাদি), তবে সেক্ষেত্রে শর্ত হলো তাদের কুফরি মতাদর্শকে সমর্থন না করা।
-
অর্থাৎ, ব্যক্তির ভালো কাজে সাহায্য করা যাবে, কিন্তু তার শরীয়াহ অস্বীকারকে সমর্থন করা যাবে না।
৫. উপসংহার
-
যে ব্যক্তি বা দল স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে “আমরা শরীয়াহ বা ইসলামিক আইন মানি না”, তাদের সমর্থন করা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে জায়েজ নয়।
-
সমর্থন করলে একজন মুসলিম নিজের ঈমানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
-
তবে, তাদের ব্যক্তিগত ভালো কাজের সাথে ন্যায়সঙ্গতভাবে সহযোগিতা করা যেতে পারে—কিন্তু তাদের আদর্শকে শক্তিশালী করা যাবে না।
👉 আমার ব্যক্তিগত মতামত: মুসলমানের জন্য শরীয়াহ মানা শুধু একটি আইন নয়, বরং ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই যারা এটিকে অস্বীকার করে, তাদের সমর্থন থেকে বিরত থাকা উচিত।

0 Comments