নামাজে ধোঁকা দেওয়া, মনোযোগ নষ্ট করা ও খেয়ালভঙ্গ ঘটানোর জন্য যে বিশেষ শয়তানের কথা এসেছে, তাকে হাদিসে “খিনযব (خِنْزَب / خنزب)” বলা হয়েছে। নিচে কোরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা দেওয়া হলো—
✅ নামাজে ধোঁকা দেওয়ার শয়তানের নাম: খিনযব
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“নামাজের সময়ে একটি বিশেষ শয়তান আসে, যার নাম খিনযব। সে মানুষের নামাজে সন্দেহ, অশান্তি ও মনোযোগ বিচ্যুতি সৃষ্টি করে।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০৩
এই শয়তান মানুষের মনে বিভিন্ন চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়—
- নামাজে ভুলিয়ে দেওয়া
- গণনা ভুল করানো
- অযু নষ্ট হয়েছে কিনা সন্দেহ সৃষ্টি করা
- দুনিয়ার বিভিন্ন চিন্তা আনানো
- মনোযোগ উড়িয়ে দেওয়া
✅ হাদিসের পূর্ণ বিবরণ
একজন সাহাবি অভিযোগ করলেন যে,
“হে আল্লাহর রাসুল, নামাজে এমন এক শয়তান এসে আমাকে বিভ্রান্ত করে, আমার নামাজ গুলিয়ে ফেলে।”
তখন রাসুল ﷺ বললেন—
“ওটা খিনযব। যখন তুমি এটিকে অনুভব করবে, আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে (‘আউযু বিল্লাহ…’) এবং বাম দিকে হালকা থুথু দেওয়ার মতো ইশারা করবে।”
ফলে ঐ সাহাবি বলেন—
“আমি এভাবে করলাম, ফলে আল্লাহ আমাকে তা থেকে রক্ষা করলেন।”
— সহিহ মুসলিম
✅ কোরআনে এর ইঙ্গিত
কোরআনে বিশেষভাবে “খিনযব” নাম উল্লেখ নেই, তবে আল্লাহ বলেন—
১. শয়তান নামাজে ভুলিয়ে দেয়
“শয়তান মানুষকে ভুলিয়ে দেয়, যাতে সে আল্লাহর জিকির (ইবাদত) থেকে দূরে থাকে।”
— সূরা আল-মুজাদালা: ১৯
২. শয়তান whisper (ওয়াসওয়াসা) দেয়
“যে শয়তান মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।”
— সূরা আন-নাস
৩. শয়তান আল্লাহর ইবাদত থেকে বিরত রেখে দেয়
“শয়তান তোমাদের শত্রু—তোমরা তাকে শত্রুই মনে করো।”
— সূরা ফাতির: ৬
এগুলো স্পষ্ট প্রমাণ যে শয়তানের প্রধান লক্ষ্যই হলো মানুষকে নামাজ থেকে দূরে রাখা বা নামাজ নষ্ট করা।
✅ নামাজে ‘খিনযব’ থেকে বাঁচার উপায়
হাদিসে রাসুল ﷺ চারটি পদ্ধতি শিখিয়েছেন—
১. “আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম” পড়া
যখন মনোযোগ চলে যায় বা সন্দেহ আসে।
২. বাম দিকে হালকা থুথু ফেলার মতো ইশারা (তিনবার)
(ডান বা মাটিতে থুথু ফেলা নয়—হালকা ফুঁ দেওয়ার মতো)
৩. নামাজে খুশুকে শক্তিশালী করা
- ধীরে ধীরে কিরাত পড়া
- আয়াতের অর্থ ভাবা
- সেজদা দীর্ঘ করা
৪. দুনিয়ার চিন্তা দূর করে মনকে প্রস্তুত করে নামাজে দাঁড়ানো
📌 সারসংক্ষেপ
| বিষয় | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| বিশেষ শয়তানের নাম | খিনযব |
| উৎস | সহিহ মুসলিম |
| কাজ | নামাজে মনোযোগ নষ্ট করা, ভুল করানো, সন্দেহ সৃষ্টি |
| প্রতিকার | আউযু বিল্লাহ পড়া, বামে হালকা তিনবার ফুঁ দেওয়া |

0 Comments