খুব সুন্দর ও গভীর একটি প্রশ্ন করেছেন — “একই আদমের সন্তান হয়েও একজন ভালো, আরেকজন মন্দ প্রকৃতির হয় কেন?” — এ বিষয়ে ইসলামী দৃষ্টিতে একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা রয়েছে।
🔹 ১. মানুষের সৃষ্টি ও স্বাধীন ইচ্ছা (ইখতিয়ার)
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে জ্ঞান ও বিবেক দিয়েছেন এবং ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য বুঝার ক্ষমতা দিয়েছেন।
কুরআনে বলা হয়েছে:
“আর আমরা তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি— সে চাইলে কৃতজ্ঞ হবে, আর চাইলে অকৃতজ্ঞ।”
(সূরা আল-ইনসান, আয়াত ৩)
অর্থাৎ, মানুষ নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় সে ভালো পথে চলবে না মন্দ পথে। তাই একই আদমের সন্তান হয়েও কারো প্রবণতা ভালো কাজের দিকে, কারো প্রবণতা মন্দ কাজের দিকে হয় তার নিজের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের কারণে।
🔹 ২. পরীক্ষা ও দায়িত্ব
আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এক পরীক্ষা হিসেবে।
আল্লাহ বলেন:
“যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি পরীক্ষা করেন তোমাদের মধ্যে কে আমলে উত্তম।”
(সূরা আল-মুলক, আয়াত ২)
এই পরীক্ষায় কেউ সফল হয়, কেউ ব্যর্থ হয়। ভালো ও মন্দ প্রকৃতির পার্থক্য আসলে এই পরীক্ষারই ফল।
🔹 ৩. পরিবেশ ও লালন-পালন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“প্রত্যেক নবজাতক ইসলাম ধর্মের উপর জন্ম নেয়, কিন্তু তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা মজুসি বানিয়ে ফেলে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদীস: ২৬৫৮)
অর্থাৎ, মানুষ জন্মগতভাবে খারাপ নয়। সমাজ, পরিবার ও পরিবেশ তার চরিত্র ও প্রকৃতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।
🔹 ৪. শয়তানের প্ররোচনা
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে সতর্ক করেছেন যে, শয়তান মানুষের শত্রু এবং সে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়।
“নিশ্চয় শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু, অতএব তাকে শত্রু রূপে গ্রহণ কর।”
(সূরা ফাতির, আয়াত ৬)
যারা আল্লাহর জিকির ও দিকনির্দেশনা থেকে দূরে থাকে, শয়তান তাদের পথভ্রষ্ট করে ফেলে, ফলে তাদের চরিত্র মন্দ হয়ে যায়।
🔹 ৫. আল্লাহর হিদায়াত (দিকনির্দেশনা)
আল্লাহ যাকে চান তাকেই হিদায়াত (সঠিক পথে চলার শক্তি) দান করেন।
“আল্লাহ যাকে চান তাকে সোজা পথে পরিচালিত করেন।”
(সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২১৩)
তবে হিদায়াত পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য মানুষকেই চেষ্টা করতে হয়।
🔹 উপসংহার
একই আদমের সন্তান হয়েও ভালো-মন্দের পার্থক্য হয় কারণ—
-
মানুষের নিজস্ব ইচ্ছা ও সিদ্ধান্ত,
-
আল্লাহর পরীক্ষার অংশ,
-
পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব,
-
শয়তানের প্ররোচনা,
-
এবং আল্লাহর হিদায়াত প্রাপ্তি বা বঞ্চনা।

0 Comments