দুধমাতা হালিমা সাদিয়ার কাছে লালন-পালন
মক্কার অভিজাত কুরাইশ গোত্রে নবী করিম (সাঃ)-এর জন্মের পর সেই সময়কার রীতি অনুসারে তাঁকে মরু এলাকার মহিলাদের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়, যাতে শিশুরা বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শেখে এবং শারীরিকভাবে সবল হয়ে ওঠে। মহানবী (সাঃ)-কে লালন-পালনের সৌভাগ্য অর্জন করেন বনি সা’দ গোত্রের হালিমা সাদিয়া (রাঃ)।
হালিমা যখন মক্কায় নবজাতক মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নেন, তখন তাঁর পরিবার অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল। কিন্তু নবীজিকে বুকে নেওয়ার পর থেকেই আল্লাহ্ তায়ালা তাঁদের জীবনে বরকত দান করেন। হালিমার শুকনো উটনীর দুধে বরকত আসে, তাঁর গাধা দ্রুত চলতে শুরু করে এবং তাঁদের ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি নেমে আসে।
হালিমা ও তাঁর পরিবার ছোট্ট মুহাম্মদ (সাঃ)-কে অত্যন্ত ভালোবাসা ও যত্নে লালন-পালন করেন। চার বছর বয়স পর্যন্ত তিনি হালিমার সান্নিধ্যে মরু অঞ্চলে বাস করেন। এই সময়ে তাঁর ভদ্রতা, শান্ত স্বভাব ও পবিত্র চরিত্র দেখে সবাই অবাক হতেন।
শৈশবের অলৌকিক ঘটনা (বক্ষ বিদারণের ঘটনা)
নবীজির শৈশবকালে একটি আশ্চর্য ও অলৌকিক ঘটনা ঘটে, যা ইতিহাসে “বক্ষ বিদারণের ঘটনা” (শক্কুস সাদর) নামে পরিচিত।
একদিন ছোট্ট মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে খেলছিলেন। হঠাৎ দুইজন ফেরেশতা এসে তাঁকে শুইয়ে দেন, তাঁর বক্ষদেশ বিদীর্ণ করেন, হৃদয় বের করে একটি কালো দাগের মতো কিছু বের করে ফেলেন এবং বলেন —
“এটি হলো শয়তানের অংশ, যা তোমার হৃদয় থেকে বের করে দেওয়া হলো।”
এরপর তাঁরা তাঁর হৃদয়কে জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে আবার জায়গায় স্থাপন করেন। এই ঘটনার সাক্ষী শিশু বন্ধুরা ভয় পেয়ে দৌড়ে হালিমার কাছে এসে বলে, “মুহাম্মদকে হত্যা করা হয়েছে!” কিন্তু যখন হালিমা ছুটে এসে তাঁকে দেখেন, তখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন, শুধু মুখমণ্ডলে কিছুটা ফ্যাকাশে ভাব ছিল।
এই ঘটনাটি ছিল মহানবী (সাঃ)-এর হৃদয়কে পবিত্র ও পাপমুক্ত করার অলৌকিক নিদর্শন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবুয়তের প্রস্তুতি হিসেবে ঘটেছিল।

0 Comments