“একটি দল বা গোষ্ঠী দীর্ঘদিন নিপীড়ন চালিয়ে ক্ষমতায় ছিল, তার শতভাগ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কিছু মানুষ এখনো তাদের সমর্থন করে কেন, এবং ইসলামের দৃষ্টিতে এর ব্যাখ্যা কী?”



এটি সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে গভীর একটি বিষয়। নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো 👇


🔹 সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ

১. স্বার্থবাদিতা (Self-interest):
অনেকেই ব্যক্তিগত লাভ, পদ, অর্থ বা প্রভাবের জন্য অন্যায়কারী দলকে সমর্থন করে। তাদের লক্ষ্য ন্যায়ের বিজয় নয়, বরং নিজেদের সুবিধা রক্ষা করা।

২. অন্ধ আনুগত্য (Blind loyalty):
কেউ কেউ দল বা নেতার প্রতি অন্ধ ভক্তি পোষণ করে। তারা সত্য বা অন্যায়ের বিচার না করে “আমার দলই ঠিক” — এই মনোভাব রাখে।

৩. ভয় ও নিরাপত্তা (Fear):
কখনো কখনো মানুষ ভয়ে নিপীড়ক দলের পাশে থাকে। তারা ভাবে, বিরোধিতা করলে হয়তো ক্ষতির মুখে পড়বে।

৪. অজ্ঞতা ও প্রচারযুদ্ধ (Ignorance and propaganda):
কিছু লোক প্রকৃত সত্য জানে না বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত হয়। প্রচারমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ তাদের চিন্তাকে বিকৃত করে ফেলে।


🔹 ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

১. জালিমের পক্ষ নেওয়া হারাম:
কুরআনে আল্লাহ বলেন —

“আর তোমরা জালিমদের দিকে ঝুঁকো না, তা না হলে আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।”
— (সূরা হূদ ১১:১১৩)

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি জালিমদের সমর্থন করে, সে পরোক্ষভাবে অন্যায়ের অংশীদার হয়।

২. সত্য গোপন করা পাপ:

“যে ব্যক্তি সত্যকে গোপন করে, আল্লাহ তার উপর অভিশাপ বর্ষণ করেন।”
— (সূরা আল-বাকারা ২:১৫৯)

যখন কারও কাছে অন্যায়ের প্রমাণ থাকে, কিন্তু সে তবুও অন্যায়কারীর পাশে দাঁড়ায়, তখন সে সত্য গোপনকারীর অন্তর্ভুক্ত হয়।

৩. ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ঈমানের দাবি:
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —

“তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় দেখবে, সে যেন হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করে; না পারলে মুখে প্রতিবাদ করে; তাও না পারলে অন্তরে ঘৃণা করে। আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।”
— (সহীহ মুসলিম)

অর্থাৎ, অন্যায়কারীর প্রতি সমর্থন নয়, বরং অন্তরে ঘৃণাই একজন মুসলিমের ন্যূনতম দায়িত্ব।

৪. কিয়ামতের দিনে বিচার:
যে ব্যক্তি অন্যায়কারীকে সাহায্য করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তার বিরুদ্ধেই বিচার করবেন।

“যে ব্যক্তি জালিমকে সাহায্য করে, আল্লাহ তাকে তার জুলুমের সঙ্গে ধ্বংস করবেন।”
— (মুসনাদ আহমদ)


🔹 উপসংহার

যারা প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও নিপীড়নকারী দল বা গোষ্ঠীকে সমর্থন করে, তারা হয় স্বার্থান্ধ, অজ্ঞ, অথবা ঈমানের দুর্বলতায় আক্রান্ত। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি গুরুতর অন্যায় ও পাপের কাজ। একজন সত্যনিষ্ঠ মুসলমানের কর্তব্য হলো ন্যায়ের পক্ষে এবং জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, এমনকি তা নিজের দল বা আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও হয়।

Post a Comment

0 Comments