বাদশাহ হারুন অর রশিদের একদিনের বিচার


🌿 গল্পঃ বাদশাহ হারুন অর রশিদের একদিনের বিচার

একদিন বাদশাহ হারুন অর রশিদ স্বাভাবিক পোশাকে, রাজকীয় পরিচয় গোপন করে শহর পরিদর্শনে বের হলেন। তিনি চেয়েছিলেন জানতে— প্রজারা কেমন আছে, শাসক হিসেবে তাঁর প্রশাসন কতটা ন্যায়বিচার করছে।

শহরের পথে হেঁটে যেতে যেতে তিনি দেখলেন, এক গরিব মানুষ কাঁদছে আর বলছে,
“হায় আল্লাহ! আমি অন্যায়ের শিকার হয়েছি, কিন্তু কেউ আমার বিচার করছে না!”

বাদশাহ কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
— “কি হয়েছে ভাই, কেন কাঁদছো?”

গরিব মানুষটি বলল,
— “আমি একজন ব্যবসায়ীকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলাম, কিন্তু সে এখন তা অস্বীকার করছে। কাদি (বিচারক)-এর কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু ধনী লোকের প্রভাবে আমার বিচার পাইনি।”

বাদশাহ চুপচাপ সব শুনলেন এবং বললেন,
— “চলো, কাল তোমার মামলাটা আবার কাদির সামনে নিয়ে যাই।”

পরদিন সকালে বাদশাহ রাজবেশে আদালতে উপস্থিত হলেন। কাদি সাহেব মামলাটি শুনতে বসলেন। বাদশাহ হারুন অর রশিদ নিজেই সেই গরিব লোকের পক্ষে কথা বললেন এবং ধনীর সাক্ষ্য প্রমাণ যাচাই করার নির্দেশ দিলেন। শেষে দেখা গেল, গরিব লোকটির কথাই সত্য।

বাদশাহ তখন ঘোষণা করলেন,
“যে কাদি ন্যায়বিচার না করে ধনীর পক্ষে রায় দিয়েছিল, সে তার দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছে।”

তিনি সেই কাদিকে শাস্তি দিলেন এবং গরিব লোকটির ন্যায্য পাওনা ফেরত দিলেন।


⚖️ নৈতিক শিক্ষা

১. শাসকের প্রথম কর্তব্য হলো ন্যায়বিচার করা।
২. ধনী-গরিবের মধ্যে বিচার সমান হতে হবে।
৩. শাসকের উচিত নিজের চোখে প্রজাদের অবস্থা দেখা।
৪. অন্যায়কারীর প্রভাব নয়, সত্যের জয় সর্বদা নিশ্চিত করতে হবে।


এই গল্প থেকে আমরা শিখি — ন্যায়বিচারই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি, আর একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকই জনগণের ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments