তাকদিরে বিশ্বাস করা ইসলামের ঈমানের ছয়টি মূল স্তম্ভের অন্যতম একটি। আল্লাহতায়ালার নির্ধারিত বিধান ও পরিকল্পনার উপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং বিশ্বাস করা যে, দুনিয়ার প্রতিটি ঘটনা, কল্যাণ বা অকল্যাণ, জীবন-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ—সবকিছু আল্লাহর ইলম ও সিদ্ধান্তের অন্তর্ভুক্ত—এটাই তাকদিরে বিশ্বাস।
তাকদিরের মূল ধারণা
তাকদির অর্থ “আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত বিধান”। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়, মানুষের জীবনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ইলমের বাইরে নয়। তিনি পূর্বেই জানেন কে কখন জন্ম নেবে, কতদিন বাঁচবে, কী কাজ করবে, কী রিজিক পাবে এবং কোন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে।
আল্লাহ বলেন:
“আমি সবকিছু একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অনুযায়ী সৃষ্টি করেছি।”
(সুরা আল-কামার: 49)
তাকদিরে বিশ্বাসের চারটি স্তর
১. আল্লাহর জ্ঞান (ইলম):
আল্লাহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুর খবর জানেন। কোনো কিছু তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়।
২. লেখা (কিতাবা):
আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টির আগেই সবকিছু লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন।
৩. ইচ্ছা (মাশিয়াত):
আল্লাহ যা চান তাই হয়। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই ঘটে না।
৪. সৃষ্টি (খালক):
আল্লাহই প্রত্যেক ঘটনার স্রষ্টা, তবে মানুষের ইচ্ছা ও চেষ্টা তাঁর প্রদত্ত ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তাকদির ও মানুষের স্বাধীনতা
তাকদিরে বিশ্বাস মানে এই নয় যে, মানুষ কিছু করতে পারে না। আল্লাহ মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। সে ভালো বা মন্দ কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না।
উদাহরণস্বরূপ:
-
একজন মানুষ পরিশ্রম করলে রিজিক লাভ করবে, এটা তার কাজ।
-
কিন্তু সেই রিজিকের চূড়ান্ত পরিমাণ, কোথায় থেকে আসবে, কতদিন থাকবে—সব আল্লাহর নির্ধারণ করা তাকদির অনুযায়ী।
তাকদিরে বিশ্বাসের উপকারিতা
১. আত্মতৃপ্তি: মানুষ দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যশীল হয়, কারণ সে জানে আল্লাহর নির্ধারণ ছাড়া কিছুই ঘটে না।
২. অহংকার মুক্তি: সাফল্য এলে মানুষ বুঝে, এটি আল্লাহর নিয়ামত, শুধুমাত্র নিজের কৃতিত্ব নয়।
৩. সান্ত্বনা: বিপদে মানুষ হতাশ না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে।
৪. আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল): তাকদিরে বিশ্বাস মানুষকে আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল হতে শেখায়।
হাদিসে তাকদির
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের মধ্যে কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তাকদিরের ভালো ও মন্দে বিশ্বাস করে।”
(তিরমিজি, হাদিস: ২১৪৪)
সারসংক্ষেপ
তাকদিরে বিশ্বাস করা মানে হলো এ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ সবকিছু পূর্বেই জেনে রেখেছেন এবং নির্ধারণ করেছেন। মানুষ চেষ্টা করবে, তবে ফলাফল আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। এ বিশ্বাস মুমিনের হৃদয়ে শান্তি আনে, হতাশা দূর করে এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা স্থাপন করে।
.jpg)
0 Comments